সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত

তিন দেশ থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টন সার কিনবে সরকার

দেশের কৃষি খাতে ব্যবহারের জন্য রাশিয়া, কানাডা ও মরক্কোর প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টন সার কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

দেশের কৃষি খাতে ব্যবহারের জন্য রাশিয়া, কানাডা ও মরক্কোর প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টন সার কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে ব্যয় হবে ৮৯২ কোটি ৪৩ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। সচিবালয়ে গতকাল অর্থ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় এ অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে রাশিয়ার জেএসসি ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় ৩০ হাজার টন এমওপি সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত কমিটি। এতে ব্যয় হবে ১২৯ কোটি ৫৯ লাখ ৮০ হাজার ৫০০ টাকা। প্রতি টন সারের দাম ধরা হয়েছে ৩৫১ দশমিক ৫০ ডলার।

একইভাবে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিক্রপস ও বিএডিসির মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় ৩০ হাজার টন টিএসপি সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি। এতে ব্যয় হবে ২১১ কোটি ৮১ লাখ ৮১ হাজার ৫০০ টাকা। প্রতি টন সারের দাম ধরা হয়েছে ৫৭৪ দশমিক ৫০ ডলার। মরক্কোর একই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৪০ হাজার টন ডিএপি সার আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৩৭৮ কোটি ২২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এক্ষেত্রে প্রতি টন সারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৭০ ডলার।

কানাডিয়ান কমার্শিয়াল করপোরেশন ও বিএডিসির মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় ৪০ হাজার টন এমওপি সার আমদানির প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। এতে ব্যয় হবে ১৭২ কোটি ৭৯ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। প্রতি টন সারের দাম ধরা হয়েছে ৩৫১ দশমিক ৫০ ডলার।

গতকাল ক্রয় কমিটির সভায় এলএনজি ও মসুর ডাল কেনা-সংক্রান্ত আরো কয়েকটি প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে সিঙ্গাপুরের দুই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দুই কার্গো এলএনজি আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি। এর মধ্যে স্পট মার্কেটের মাধ্যমে গানভর সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে এক কার্গো এলএনজি ৫১৩ কোটি ৪৫ লাখ ৩৫ হাজার ৭৮ টাকায় আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম ধরা হয়েছে ১২ দশমিক ২২ ডলার।

সিঙ্গাপুরের আরেক প্রতিষ্ঠান ভিটল এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে এক কার্গো এলএনজি আমদানিতে ব্যয় হবে ৫২২ কোটি ২৭ লাখ ৭১ হাজার ৭৬৯ টাকা। এক্ষেত্রে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম পড়বে ১২ দশমিক ৪৩ ডলার।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) জন্য স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে সাত হাজার টন মসুর ডাল কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৬৪ কোটি ৩১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। প্রতি কেজি ডালের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৯১ টাকা ৮৮ পয়সা। কেবিসি এগ্রো প্রডাক্টস প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে এ ডাল কেনা হবে।

আরও